Facebook Twitter Instagram YouTube

ক্ষমতা ও সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ /
ক্ষমতা ও সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি

প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি আজ ১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় দলটির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে কতটা সক্রিয় ও জনসম্পৃক্ত রাখা যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব তৈরি হয়—রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় সংগঠন সচল রাখা। বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি বড় অংশ সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁরা বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দলীয় কর্মকাণ্ডে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় কমেছে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতাও এখন কম দৃশ্যমান। ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতির চরিত্রও বদলেছে। দুই দশকের মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা এখন দলীয় পদ, সরকারি সুবিধা কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাওয়ার দিকে। জেলা-উপজেলায় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ঘিরে নতুন তৎপরতা তৈরি হয়েছে। ঢাকায় এসে নেতাদের সঙ্গে দেখা করে এলাকায় নিজেদের প্রভাব জাহির করা এবং স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করাই অনেকের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বঞ্চনার ক্ষোভও যুক্ত হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলনের সময় নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের সরকার ও প্রশাসনে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৭ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে সতর্ক করে বলেন, সংশোধন না হলে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কারও মুখ দেখা হবে না। দলীয় নেতাদের আশঙ্কা, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জ্বালানি তেলের সংকট, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরব হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করতে রাজি নন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কারণেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে এবং সরকার এর সমাধানে দিনরাত কাজ করছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব পদ ছাড়ার পর রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা এবং স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন সদস্য যুক্ত করার মাধ্যমে সরকার ও সংগঠনের কাজের সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। আসন্ন এসব নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে আগ্রহী নেতার সংখ্যা বাড়ছে এবং কোথাও কোথাও প্রতিযোগিতা তীব্র আকার নিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবদান ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মতের সমন্বয় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই টানাপোড়েন সামলাতে তারেক রহমান বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং আমলাতন্ত্রের অসহযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বিএনপিকে জনগণের কাছে সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo