
পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাব এবং দুর্বল সারভিলেন্স বা নজরদারি ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছোট পর্যায়েই অনিয়ম শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন ভালো আইপিও বাজারে আনা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এছাড়া ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিবিএ'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও মেসবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে ৬ হাজার সূচক বর্তমানে একটি মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে কাজ করছে। সূচকটি এই সীমার কাছে গেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট ‘ট্রিমার’ ও ‘আর্থকোয়েক’-এর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে নামলেই বাজার বড় ধাক্কা খায়। তিনি অযথা বিনিয়োগকারীদের ওপর হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বড় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দিতে হবে, তবে কারসাজি হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি ডিএসইতে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে সরাসরি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তাব দেন। এছাড়া সিডিবিএলের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে ভালো কোম্পানি আনার পরামর্শ দেন তিনি।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বাজারে পড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০০ থেকে ৩০০ আইপিওর মধ্যে প্রায় ১৫০টি কোম্পানিকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এগুলোর ব্যালান্স শিট ও অভ্যন্তরীণ তথ্য সঠিক নয়। তিনি বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, কারণ এর প্রভাব বাজারে পড়ে। পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও সারভিলেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ছোট অনিয়ম বড় হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বীকার করেন যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য কোনো সূচক বা লেনদেন বাড়ানো নয়, বরং একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করা। তিনি জানান, বিএসইসি ও ডিএসইর নজরদারি ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন বিধিতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর কথা জানান তিনি। এছাড়া ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, যা অনুমোদনের পর জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কথা নয়, কাজের মাধ্যমেই এই আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :