
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২০
গর্ভধারণ নারীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল পর্যায়। এই সময়ে কেবল গর্ভস্থ শিশুর বিকাশের দিকে নজর দিলেই চলে না, বরং মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও সমানভাবে জরুরি। একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো নিয়মিত গর্ভকালীন চেক-আপ। অনেকে মনে করেন, শারীরিক কোনো সমস্যা অনুভব না করলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে এটি ভুল ধারণা। গর্ভাবস্থার অনেক জটিলতা শুরুতে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই দেখা দিতে পারে, যা নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব।
নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে মায়ের সার্বিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এছাড়া গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ নির্ণয় ও প্রতিকারে এটি সহায়ক। প্রসব-পরবর্তী মা ও নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি নিতে এবং মাকে সঠিক পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও জীবনযাপন সম্পর্কে পরামর্শ দিতে চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর আদর্শভাবে প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম চেক-আপ সম্পন্ন করা উচিত। এই প্রথম সাক্ষাতে গর্ভের বয়স নির্ধারণ, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ (ইডিডি) হিসাব করা এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করা হয়।
১-২৮ সপ্তাহ: প্রতি চার সপ্তাহে একবার।২৮–৩৬ সপ্তাহ: প্রতি দুই সপ্তাহে একবার।৩৬ সপ্তাহ থেকে প্রসব পর্যন্ত: প্রতি সপ্তাহে একবার।তবে যাদের গর্ভাবস্থা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আরও ঘনঘন ফলো-আপের পরামর্শ দিতে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন :