Facebook Twitter Instagram YouTube

মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না ইমরান খান


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ /
মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না ইমরান খান

কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবেন না। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে পিটিআই ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হ্রাসের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জুলফিকার বুখারি জানান, ইমরান খান কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশের স্বার্থে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। তার ভাষায়, দেশের কল্যাণের জন্য নিজের যন্ত্রণা গিলে ফেলতে হবে এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া যাবে না। ২০২৩ সালে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পিটিআইয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে উঠেছিল এবং ইমরান নিজেও অতীতে সেনাপ্রধানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন।

তবে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর পিটিআইয়ের বক্তব্যে সমঝোতার সুর লক্ষ্য করা গেছে। বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নতুন আশার আলো হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দল সমর্থক কর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার আদালতের নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি আবেদন কারিগরি কারণে খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

বুখারি দাবি করেন, পিটিআই ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে তিনি আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেনাপ্রধান যদি দেশের পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং নিরাময়ের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, কারাগারে বন্দি অবস্থায় পিটিআইয়ের পক্ষে রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা বুখারি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গত আট মাস ধরে পিটিআই নেতারা ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি, সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আসছে। এদিকে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও পিটিআই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা ইমরান খানের মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বুখারি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy