
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০৭:৪৩ এএম-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হরমুজ প্রণালির ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার পর এই পালটা পদক্ষেপ নেয় ইরান।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন লক্ষ্য করে একটি ‘ভারি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কারিগরি অবকাঠামোর কিছু অংশে আগুন ধরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই হামলায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নাকচ করে দিয়েছে।
এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ অবস্থিত মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং ক্যাম্পের বেশ কিছু স্থাপনা ও শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানায় আইআরজিসি। ওই মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনাদের জমায়েতের স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
এর আগে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দেওয়ার পর মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জবাবে ইরান যদি পুনরায় পালটা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :