Facebook Twitter Instagram YouTube

জবি শিক্ষার্থী অথৈকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, প্রেমিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ /
জবি শিক্ষার্থী অথৈকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, প্রেমিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গৃহীত হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইয়াছিনের অনবরত মানসিক নিপীড়ন ও উত্যক্ত করার কারণেই অথৈ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। তবে এরই মধ্যে অভিযুক্ত ইয়াছিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর পক্ষের আইনজীবী।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের একটি মেস থেকে জবি শিক্ষার্থী অথৈয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা প্রণব মজুমদার বাদী হয়ে প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ লালবাগের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ইয়াছিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হলেও আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

সূত্রাপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে গত ১৯ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত এই চার্জশিট গ্রহণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সোহানুর রহমান জানান, মামলাটি এখন বিচারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং তা বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অথৈ ও ইয়াছিনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় ছোটবেলায় তাঁরা চট্টগ্রামের একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন। সে সময় ইয়াছিন বিভিন্ন সময়ে অথৈকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও ইতিবাচক সাড়া পাননি। পরবর্তীতে অথৈ এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হন এবং সূত্রাপুরের একটি মেসে থাকা শুরু করেন। অথৈ ঢাকায় আসার পর ইয়াছিনও তাঁর পিছু নেন এবং একই এলাকায় চাকরি নিয়ে তাঁকে নিয়মিত উত্যক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও ইয়াছিন বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন আচরণ, অপমানজনক কথাবার্তা এবং ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলসহ চরম মানসিক নির্যাতন করতেন।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ক্যাম্পাসে সংগীত উৎসবের অনুশীলন শেষে মেসের দিকে ফেরার পথে ইয়াছিন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অথৈকে উৎসবে অংশ নিতে বারণ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, ইয়াছিনের এই ধরনের অপমানজনক ও চাপ প্রয়োগকারী আচরণ সহ্য করতে না পেরে ওইদিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে যেকোনো এক সময়ে নিজ রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন অথৈ। ঘটনার সময় ইয়াছিনের সন্দেহ হওয়ায় তিনি মেসের মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান এবং হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার রায় দাবি করেন, আসামির চরম মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের কারণেই ভিকটিম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। আসামির মোবাইল ফোন সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক দাবি করেছেন, ইয়াছিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর পরিবার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী তারিখে আদালতের কাছেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।

মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের বাবা প্রণব মজুমদার জানান, ছোট মেয়ে অথৈকে নিয়ে তাঁর অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তাকে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও এক যুবকের মানসিক নিপীড়নে তাঁর সেই স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে গেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সঠিক শাস্তি দাবি করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh