Facebook Twitter Instagram YouTube

লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ /
লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

দীর্ঘদিন লিবিয়ার বন্দিশিবিরে অমানবিক জীবন কাটানোর পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রিপলির তাজুরা বন্দিশিবির থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সঙ্গে থাকা আইওএম-এর দেওয়া একটি নীল ব্যাগ তাঁদের ভিন্ন গল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। দেশে ফেরার পর ৩৮ বছর বয়সী মশিউর রহমান ও সোহেল মিয়া নামের দুই যাত্রী তাঁদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

মশিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী গ্রামে। তিনি ৯ মাস আগে ইউরোপে ভাগ্য বদলের আশায় ঘর ছাড়েন। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে রওনা দিয়ে তাঁর প্রথম ট্রানজিট ছিল মালয়েশিয়ায় ১২ ঘণ্টার, এরপর শ্রীলঙ্কায় ২ দিন এবং কুয়েতে ২ ঘণ্টার ট্রানজিট পার করে তিনি মিসরে পৌঁছান। লিবিয়ায় বন্দী অবস্থায় মারধরের ভয় দেখিয়ে ফোনে হুমকি দেওয়া হতো, সেই ভয়ে তাঁর পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করে দালালের হাতে তুলে দেয়। অবশেষে তিন মাস আগে খমস থেকে কাঠের নৌকায় ৩০ বাংলাদেশি ও ৪ মিসরীয়কে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া শুরু হয়।

মশিউর রহমান জানান, বন্দিশিবিরে ৪৫ দিন তিনি কোনো ভাত খেতে পারেননি। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট ছিল এবং কলের লোনাপানি খেয়েই তাঁদের টিকে থাকতে হয়েছে। তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে যে কক্ষে সর্বোচ্চ ২০০ জন মানুষ থাকার জায়গা হতে পারত, সেখানে রাখা হয়েছিল ৫০০ জনকে। অবশেষে গত ২৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে মশিউরের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে মাদারীপুরের রাজৈরের সোহেল মিয়া ১৪ মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ৩৯ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া যান। তিনিও তাজুরা বন্দিশিবিরে ৪৮ দিন কাটিয়েছেন। সোহেল জানান, তীব্র গরমে দমবন্ধ পরিবেশে বন্দিশিবিরে তাঁদের কোরবানির ঈদও কেটেছে চোখের পানিতে।

দেশে ফেরার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তার জন্য যোগাযোগ নম্বর দিয়েছে। আইওএম-এর পক্ষ থেকেও তাঁদের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মশিউর ও সোহেল উভয়েই এখন দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo