Facebook Twitter Instagram YouTube

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ /
শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে তাঁর অধস্তন কর্মীদের দ্রুত বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এই নির্বাচনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হওয়ায় তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা গিয়েছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ কর্মসূচি পালন করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

ক্ষমতাসীন বিএনপি এবারই প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে, তাই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারকেরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আমলে দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে নানা বিতর্কিত অভিযোগ ছিল, যার মধ্যে ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও অন্যতম।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo