Facebook Twitter Instagram YouTube

শেখ হাসিনাকে হিটলার-মুসোলিনির চেয়েও নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট বললেন রিজভী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৫, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ /
শেখ হাসিনাকে হিটলার-মুসোলিনির চেয়েও নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট বললেন রিজভী

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকত। শেখ হাসিনাও ছিলেন এক মারাত্মক রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট, তবে তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করলেও, তারা নিজেদের জাতিকে বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো দেশের টাকা পাচার করেননি, ব্যাংকের টাকা লুট করেননি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেননি কিংবা সরকারি জমি দখল করেননি।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ওইসব খুনি ও ফ্যাসিস্টদের মনে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার মনে দেশের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, পুরো জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল প্রধান এজেন্ডা। এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণেই তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছেন।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের বিশেষ চোরাপথ দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এরা সবসময় মানুষকে প্রলোভন ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ক্ষমতায় এসেছে। এরপর সেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে জনগণের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসুম ছাত্র-ছাত্রীদের হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশু, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী ও সাংবাদিকও রেহাই পাননি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের সুপ্ত শক্তির এক ‘পারমাণবিক বিস্ফোরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের এই শক্তির গভীরতা টের পাননি বলেই একের পর এক ভুয়া ও ‘আমি-ডামি’র পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই সেই সরকারকে সমর্থন করেনি, তবুও তারা নির্লজ্জের মতো জোর করে ক্ষমতায় চেপে বসেছিল।

দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ভারতের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক এবং ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য ভারত সরকারের এত মায়া ও কান্না ঝরছে যে তাকে অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী নীতি। বাংলাদেশের শিশু, কিশোর, ছাত্র ও শ্রমিকের রক্তপিপাসু এক জল্লাদকে সেখানে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ভারতের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, অন্য দেশের পলাতক ও দাগি আসামি যদি ‘ভারতপ্রেমিক’ হয়, তবে তার সাত খুন মাফ। পরিশেষে, গণতন্ত্র, কথা বলার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy