Facebook Twitter Instagram YouTube

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম, দিশেহারা ক্রেতারা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ /
রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম, দিশেহারা ক্রেতারা

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সবজি ও মাছের বাড়তি দামে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে দাম বাড়ার শীর্ষে রয়েছে কাঁচামরিচ। তালতলা বাজারে বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দুদিন আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির আগে এর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ক্রেতা জহুরুল ইসলাম জানান, আগে ২৫০ গ্রাম মরিচ ৩০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ২০ টাকায় মাত্র ৭০ গ্রাম মরিচ পাচ্ছেন। বাজারের বাইরে ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচের দাম ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই এখন ৮০ টাকার উপরে। বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও এক লাফে ২৫ টাকা বেড়ে খুচরায় ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় পণ্য আসার পথে বৃষ্টির কারণে মোকামেই দাম বেশি।

চড়া দামের তালিকায় রয়েছে ডিম ও মুরজিও। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগে ১২০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামের উত্তাপ সেখানেও স্পষ্ট। রুই মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা, যা কিছুদিন আগেও ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ছিল। তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় প্রতি কেজি ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা আরিফ হোসেনের অভিযোগ, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে বিক্রেতারা সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin