
খাগড়াছড়িতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চেঙ্গী নদী এবং এর আশপাশের ছড়া ও খালের পানি নেমে যাওয়ায় জেলা সদরের নিচু এলাকাগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দীঘিনালা উপজেলাতেও জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় কবাখালী ও বাবুছড়ার নিম্নাঞ্চলসহ ঘরবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে উপজেলার সবচেয়ে নিচু এলাকা ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার পরিবার বন্যা কবলিত অবস্থায় আছে এবং সড়ক ও ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে আছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পানি সরে যাওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। ধলিয়া খাল, গোমতি নদী এবং সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর পানি প্রবাহ বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, সাজেকে আটকে পড়া দ্বিতীয় দফার আরও ৩১১ জন পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন। সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা স্কট পর্যটকদের নিয়ে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, রাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা জুড়ে খোলা ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :