
তৃতীয়বারের চেষ্টাতেও স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হলো ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিপক্ষে টানা তৃতীয়বার জয় তুলে নিল স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৫ সালের ইউরোপীয় নেশন্স লিগের সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে হারিয়েছিল তারা।
আটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল স্পেন। প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামালের ওপর ফাউলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স, যখন রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় উইলিয়াম সালিবা পিঠের চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া। প্রথমার্ধের পুরো সময় বলের দখল রেখে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো তারকারা সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলাতে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশঁ বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। আদ্রিয়েন রাবিও এবং ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে মানু কোনোকে ও দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামানো হয়। এর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও জয় নিয়ে ফাইনালে উঠতে পেরেছিল মাত্র দুটি দল— ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এবং ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া। তবে স্পেনের দুর্দান্ত চাপ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমনের একের পর এক সেভ ফ্রান্সের গোল পাওয়ার স্বপ্নকে হতাশায় রূপ দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ এক দলীয় আক্রমণে পেদ্রো পরো গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন।
এই পরাজয়ের ফলে টানা তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফ্রান্সের। এর আগে কেবল পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) এবং ব্রাজিল (১৯৯৪-২০০২) এই বিরল কীর্তি গড়তে পেরেছিল। এই জয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ইতালির রেকর্ডে ভাগ বসাল স্পেন। ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা স্পেন আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে নামবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ফ্রান্সকে আগামী শনিবার ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হবে।
এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২ থেকে ১৯৯০) এবং ব্রাজিল (১৯৯৪ থেকে ২০০২)।ম্যাচের প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি থেকে করা গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।
ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।বিরতির পর ইতিহাসও ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে।
আপনার মতামত লিখুন :