
নতুন গবেষণায় উন্মোচিত হলো SLC35F2 নামের জিন, যা গাট ব্যাকটেরিয়া ও পুষ্টির সম্পর্ক বোঝার নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
আমাদের শরীরের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য জগত — কোটি কোটি অণুজীব, যাদের আমরা বলি গাট মাইক্রোবায়োম।
তারা শুধু হজমে সাহায্য করে না, বরং পুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন এক নতুন জিন SLC35F2, যা আমাদের কোষে এক বিশেষ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট queuosine পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই পুষ্টি-অণুটি আমাদের দেহে নিজে নিজে তৈরি হয় না — এটি আসে খাবার ও গাট ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবিষ্কার মানবদেহের জিন, খাদ্যাভ্যাস এবং গাট মাইক্রোবায়োমের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
অন্ত্রে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া বাস করে।
তারা ভিটামিন B ও K তৈরি করে, প্রদাহ কমায়, হজমে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে দেখা দিতে পারে হজম সমস্যা, স্থূলতা, এমনকি মানসিক অসুস্থতাও।
গবেষকরা বলছেন — “Your diet shapes your bacteria, and your bacteria shape your health.”
গাটের জন্য উপকারী খাবার হচ্ছে দই ও প্রোবায়োটিক খাবার, ফাইবার সমৃদ্ধ ফল ও সবজি
ওটস, ঢেঁকি চাল, স্থানীয় ফারমেন্টেড খাবার (যেমন পান্তা ভাত)। আর ক্ষতিকর হচ্ছে অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অনিয়মিত ঘুম।
গাট এর সাথে মস্তিষ্কের সংযোগ রয়েছে — “Gut-Brain Axis” গবেষণায় দেখা গেছে, গাটের ব্যাকটেরিয়া সেরোটোনিনসহ নানা স্নায়ু রাসায়নিক উৎপাদনে সাহায্য করে, যা সরাসরি মুড, উদ্বেগ ও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে —
“সুস্থ মস্তিষ্কের শুরু হয় সুস্থ অন্ত্র থেকে।”
বাংলাদেশে এই খাতের গবেষণা এখনো বিস্তৃতি লাভ করেনি। তবে স্থানীয় খাবার যেমন দই, ঢেঁকি চাল, বা আচারজাত ফারমেন্টেড খাদ্যের পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় বিজ্ঞানীরা মনে করেন,
গাট-মাইক্রোবায়োম বোঝার মাধ্যমে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও মানসিক রোগের প্রতিরোধে খাদ্যনির্ভর চিকিৎসা ভবিষ্যতে সম্ভব হবে।
গাট মাইক্রোবায়োম আর কেবল হজমের সহায়ক নয় — এটি আমাদের দেহের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক।
নতুন জিন আবিষ্কার প্রমাণ করছে, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির রহস্য এখন আমাদের ভেতরেই লুকানো। “নিজের অন্ত্র এর যত্ন দিন — সেটিই আপনার শরীরের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক।”
আপনার মতামত লিখুন :