
স্টাফ রিপোর্টার:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অসম ও গোপন চুক্তি বাংলাদেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে যাচ্ছে, যার পেছনে জনস্বার্থবিরোধী কোনো লুকায়িত উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান ও মহাসচিব মাওলানা হারিছুল হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের জনগণ এমন একটি স্পর্শকাতর চুক্তির বিষয়ে কিছুই জানে না, এমনকি সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার নয়। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে এতো গোপনীয়তা কেন—তা নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠেছে।
তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সীমিত মেয়াদের দায়িত্বশীল প্রশাসন। এই সরকারের কোনোভাবেই জনগণের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার নেই। বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া সন্দেহজনক এবং উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি অবশ্যই উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। দেশের জনগণের জানার অধিকার আছে—এই চুক্তির শর্ত কী, এর লাভ-ক্ষতি কারা বহন করবে এবং এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র বৈধ কর্তৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। নির্বাচনের পর যে সরকারই দায়িত্ব গ্রহণ করুক না কেন, তারা জনগণের সামনে সব তথ্য প্রকাশ করে এবং সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।
বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের সঙ্গে কোনো প্রকার চুক্তি বা সমঝোতার প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। অন্যথায়, দেশের আপামর জনগণ এবং তৌহিদী মুসলিম জনতা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচনের আগেই রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
সংগঠনটির মতে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নয়—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :