Facebook Twitter Instagram YouTube

সম্পাদকীয়: যুদ্ধ নয়, সংলাপই হোক দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ


Md. Zubaer Hossain প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ /
সম্পাদকীয়: যুদ্ধ নয়, সংলাপই হোক দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ

দক্ষিণ এশিয়া—একটি অঞ্চল যেখানে সীমান্ত, ধর্ম, ইতিহাস ও রাজনীতি আজও অমীমাংসিত উত্তেজনার জন্ম দেয় প্রতিনিয়ত। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত সেই দীর্ঘ অস্থিরতারই অংশ, যা বছরের পর বছর এই অঞ্চলে অশান্তি ছড়িয়েছে। তবে তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকের মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক এক বার্তা।

 

দুই দেশের মধ্যে ডুরান্ড লাইন নামের দীর্ঘ সীমান্ত যেন দুই রাষ্ট্রের অবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে, তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছে; অন্যদিকে আফগানিস্তান বলছে, ইসলামাবাদের বিমান হামলা তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে। ফলে যে সীমান্ত আগে উত্তেজনার কেন্দ্র ছিল, তা এখন রক্তাক্ত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কাতারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা যে সংলাপের পথ তৈরি করেছে, তা কেবল দুই দেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুদ্ধবিরতি শুধু একটি সাময়িক চুক্তি নয়; এটি এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি, যেখানে প্রতিপক্ষকে শত্রু নয়, বরং আলোচনার অংশীদার হিসেবে দেখতে শেখা হয়।

 

তবে ইতিহাস সাক্ষী—এই অঞ্চলে শান্তির ঘোষণা অনেকবার এসেছে, কিন্তু তা টেকেনি। স্থায়ী শান্তির জন্য শুধু বৈঠক বা বিবৃতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। সীমান্তে সেনা মোতায়েন কমানো, উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার এবং জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হতে পারে সেই আস্থার সূচনা।

 

আজ যখন বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও প্রতিশোধের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, তখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই যুদ্ধবিরতি একটুখানি হলেও শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। এই চুক্তি যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে সেটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলবে।

 

আমাদের প্রত্যাশা—দুই দেশ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবে। যুদ্ধ নয়, সংলাপই হোক এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। কারণ, বিজয় আসে অস্ত্র দিয়ে নয়, আসে বোঝাপড়া ও সহনশীলতার মাধ্যমে।