
টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও বান্দরবানের লামায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসব ঘটনায় শিশুসহ মোট আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে উখিয়ার বরইতলী মোহছনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে মাটিচাপা পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রূমি আকতার (১৫) এবং আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম তৌসিফ (১০)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের সময় ওই এলাকায় পাহাড় কাটার ফলে তৈরি টিলার পাদদেশে তারা বসবাস করত। টানা বর্ষণে মাটি নরম হয়ে রাত একটার দিকে বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় তারা চাপা পড়ে।
একই রাতে বান্দরবানের লামা আজিজনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মিশনপাড়ায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২), তাদের ছেলে মো. সোলেমান (৪) এবং ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা চট্টগ্রামের হালিশহরের মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। ঘটনার পর স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। লামা থানার ওসি মোহাম্মদ কায়ছার হামিদ জানিয়েছেন, সুরতহাল শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০ ধারায় দেওয়া বিবৃতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, এই ৩০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাঁচজন করে এবং রাঙামাটিতে একজন মারা গেছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহায়তা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় ছয়জন এবং গত রোববার রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে আটজনসহ আরও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :