Facebook Twitter Instagram YouTube

টানা বর্ষণে হাতিয়ায় পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ, স্থবির জনজীবন


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ /
টানা বর্ষণে হাতিয়ায় পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ, স্থবির জনজীবন

টানা পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এই জলাবদ্ধতার ফলে উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কৃষিজমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও হাটবাজার প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুডিরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পৌরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় মানুষের ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। রান্নার চুলা ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাবার রান্না করতে পারছে না এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিস্তীর্ণ আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং অনেক পুকুর ও মাছের ঘের উপচে মাছ ভেসে গেছে। কৃষকদের শঙ্কা, পানি দ্রুত না নামলে আমন মৌসুমের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহেদ হোসেন জানান, আগে যেখানে গবাদি পশু চরত, এখন সেখানে নৌকা চলছে। নিঝুমদ্বীপের সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও পৌরসভার বাসিন্দা বিলকিস আরা রহমানও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালগুলোতে বেহুন্দী জাল বসানো এবং উপজেলার প্রায় ২০টি স্লুইসগেটের অধিকাংশের ডালা বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা শহরে মার্টিন খালের ওপর অপরিকল্পিত দোকান ও মার্কেট নির্মাণের ফলে পৌরসভার ছয়টি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা জলাবদ্ধতাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলার ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অনেক স্থানে শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অধিকাংশ এলাকার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিলকিস আরা রহমান বলেন, বাড়ির উঠান থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত সব জায়গায় পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্না করতে পারছিনা। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।