Facebook Twitter Instagram YouTube

২০২৬ বিশ্বকাপে ভিএআর বিতর্ক: মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে উত্তাপ


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ /
২০২৬ বিশ্বকাপে ভিএআর বিতর্ক: মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে উত্তাপ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজুড়ে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে ৭ জুলাই মিশর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ম্যাচে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভিএআরের প্রয়োগ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিশর।

ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা তিন গোল করে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। এই ম্যাচের মাঝেই মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয় এবং শেষ মুহূর্তে তাদের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করা হয়। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্ভবত ফিফা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল এবং মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখতে চেয়েছিল।

মিশরের প্রধান আপত্তি ছিল দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে মিডফিল্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। অথচ মিশরের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে মোহামেদ সালাহ একই ধরনের ফাউলের শিকার হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপরই আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোলটি করে।

ফুটবলে ২০১৮ সালে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ভিএআর প্রযুক্তি চালু করে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো রেফারিদের নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা। মাঠের বাইরে থাকা বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনে মাঠের রেফারিকে সাইডলাইন মনিটরে ঘটনাটি পুনরায় দেখতে বলেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মাঠের রেফারির হাতেই থাকে। বর্তমানে বিশ্বের ৩০০টিরও বেশি প্রতিযোগিতায় এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ডালাসে অপারেশন কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

শুরুতে ভিএআর গোল, পেনাল্টি, লাল কার্ড ও ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে এতে ভুল কর্নার কিক এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে লাল কার্ডের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। তবে গোললাইন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভিএআরের ভূমিকা নেই, সেখানে বিশেষ চিপযুক্ত বল ব্যবহৃত হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে ২০ বার ভিএআর হস্তক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে ১৭টি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এটি ২৭ বার হস্তক্ষেপ করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৬ ম্যাচে রেফারিদের ২৩ বার সাইডলাইন মনিটরে ডাকা হয়েছে। বিবিসি স্পোর্টের বিশ্লেষক ডেইল জনসনের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ভিএআরের সিদ্ধান্তগুলো আগের চেয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে। মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি টুর্নামেন্টের অন্য মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তবে সালাহর পেনাল্টির বিষয়ে তিনি জানান, পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ফাউল প্রমাণের মানদণ্ড অনেক বেশি কঠোর হওয়ায় সেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন। সেই গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় ফরাসিরা এবং শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে শিরোপা জেতে।