
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা আট দিনের অবিরাম বর্ষণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব, স্যানিটেশন সমস্যা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে, যা মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না, ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরের ভেতর উঁচু মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, আবার অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। মনপুরার কলাতলি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী, বাতানখালী, কলাতলীর ঢালচর, কাজীরচর এবং কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও সোনারচর গ্রামের বিভিন্ন এলাকাও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই বেড়িবাঁধের কাজ চলায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু স্লুইসগেট অকেজো হয়ে থাকা এবং স্থানীয়ভাবে খাল দখলের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। স্থানীয়রা দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জলাবদ্ধতার ফলে পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা, যা শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :