
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট।
রোববার (আজ) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য একজন যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অপরিহার্য। তার মতে, সাবেক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়ে ওঠা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নেতা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি। গত দেড় বছরে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, আইনহীনতা ও তথাকথিত মব সন্ত্রাস বেড়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান বলেন, এই মব সন্ত্রাস সৃষ্টির পেছনে ইসলামের নাম ব্যবহারকারী একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তারা একটি নির্দিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামের অপব্যবহার করছে, যার সঙ্গে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আকিদাগত পার্থক্য সুস্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের মতবাদে সম্পৃক্ত হলে সাধারণ মানুষের ঈমান ও বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে “মওদুদীবাদী ফিতনা” আখ্যা দিয়ে দলটির কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এদেরকে ভোট দেওয়া মানেই প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ইসলামী ঐকজোটের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী শক্তিকে বয়কট করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোটকে বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত ইসলামী ঐকজোটের মহাসচিব মাওলানা হারিছুল হক, বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির আজম খান, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক ফোরামের মহাসচিব মাওলানা জুবায়ের হোসেন, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হুমায়ুন কবির এবং জাতীয় ওলামা কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :