Facebook Twitter Instagram YouTube

লালমোহনে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল আলম


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ / ০
লালমোহনে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল আলম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও নিয়োগপত্র পাননি ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম। লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় তার নাম চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে এখন নিজের নাম পুনর্বিবেচনার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। ভুক্তভোগী ফয়জুল আলম লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া এলাকার কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশ নিয়েছিলেন ফয়জুল আলম। লিখিত ও ভাইভায় সফল হওয়ার পর তিনি চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ভোলা জেলা থেকে এ নিয়োগে মোট ২৫৬ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ফয়জুল আলম ছাড়া বাকি ৪২ জনই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।

নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ফয়জুল আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই, এমনকি তার নথিপত্র বা কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাসে তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি চরম সংকটে পড়েছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান, বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা এবং ভাই-বোন রয়েছে, যারা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

ফয়জুল আরও জানান, এর আগে তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছালেও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে কোনো এক ‘অদৃশ্য কারণ’ দেখিয়ে তার সরকারি চাকরির শেষ সুযোগটি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তার আর নতুন করে আবেদন করার সুযোগও নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেধার সঠিক মূল্যায়ন না করে যদি অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এত কষ্ট করে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার কী সার্থকতা? ফয়জুল আলম অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভোলা জেলা থেকে লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া এই চার শিক্ষকের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে যে নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত আসবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh