Facebook Twitter Instagram YouTube

সৌদি ফ্লাইট বিপর্যয়ে ১৮ হাজার যাত্রী আটকা, বন্ধ রিয়াদের আকাশপথ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ / ০
সৌদি ফ্লাইট বিপর্যয়ে ১৮ হাজার যাত্রী আটকা, বন্ধ রিয়াদের আকাশপথ

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর গত ৮ দিনে ঢাকা থেকে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এই ফ্লাইট বিপর্যয়ের ফলে প্রায় ১৮ হাজার ৩৬২ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ভুক্তভোগী প্রবাসীদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কায় চড়া মূল্যে বিকল্প রুটে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।

গত ৮ দিনে বাতিল হওয়া ১১৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫২টি সরাসরি এবং ৬৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৯টি, ইউএস-বাংলার এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৩টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২৩টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরে একটি বাণিজ্যিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে এবং সময়মতো কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানোর শঙ্কাও আছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী চাপ সামলাতে মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার হচ্ছে এবং ১৯ অক্টোবর থেকে সেখানে আবার নিয়মিত বোয়িং ৭৮৭ চলবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব নয়। ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এয়ারলাইন্সগুলোকে বাতিল টিকিটের অর্থ ফেরত বা তারিখ পরিবর্তনের সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বিকল্প রুটে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি রোধে বেবিচকের নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাহকসেবা পরিচালক বদরুল হাসান লিটন জানিয়েছেন, রিয়াদ রুটের যাত্রী চাপ সামলাতে মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জেদ্দা রুটেও অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের বড় উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে দেশটি থেকে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দীর্ঘমেয়াদী ফ্লাইট বিপর্যয় বাংলাদেশের কর্মীদের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor