
ওমর ফারুক, নরসিংদী।
আসন্ন শিলমান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে তরুণ সংগঠক ও প্রবাসী রাজনৈতিক কর্মী মো. রাসেল মিয়ার নাম। দক্ষিণ শিলমান্দী এলাকার এই তরুণ সংগঠক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করলেও স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার সক্রিয়তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় তাকে গ্রেফতার করতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তার প্রয়াত বাবা আবদুল কুদ্দুস ও তার মা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সহানুভূতির সঞ্চার করে। স্থানীয়দের মতে, ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে মো. রাসেল মিয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি নিয়মিত অনলাইন মিটিং, সাংগঠনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং প্রবাসী সমর্থকদের সংগঠিত করতেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বৈরাচার পতনের আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা, ভার্চুয়াল প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং প্রবাসীদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন এবং দলের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন মো. রাসেল মিয়া। অসহায় মানুষের সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে তিনি আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান করে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার এই প্রচেষ্টা তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব, প্রবাসী অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা—এই তিনটি বিষয় তাকে একজন সম্ভাবনাময় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা মনে করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউনিয়নে উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও তাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিলমান্দীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা ও অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :