
CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) হলো একটি জরুরি জীবনরক্ষাকারী প্রক্রিয়া, যা তখন করা হয় যখন কারও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় বা শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রক্ত ও অক্সিজেন প্রবাহ বজায় রাখা হয় যতক্ষণ না পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে।
কখন CPR প্রয়োজন হয়
যখন কেউ — অজ্ঞান হয়ে পড়ে ও শ্বাস নিচ্ছে না,
নাড়ির স্পন্দন (pulse) নেই, হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃদরোগজনিত আকস্মিক থেমে যাওয়া), ডুবে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, শ্বাসরোধ, বা মারাত্মক আঘাতের পর প্রতিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
CPR করার ধাপ (Adult / প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)
একটি সহজ সূত্র হলো C–A–B (Compression – Airway – Breathing):
C – Compression (বুক চেপে ধরা)
রোগীকে শক্ত সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন।
দুটি হাত একটির উপর একটি রেখে বুকের মাঝখানে রাখুন। প্রতি মিনিটে ১০০–১২০ বার চাপ দিন (প্রতি চাপের গভীরতা প্রায় ৫ সেন্টিমিটার)।
প্রতিটি চাপের পর বুক সম্পূর্ণভাবে উঠতে দিন।
A – Airway (শ্বাসনালী খুলে দিন)
রোগীর মাথা সামান্য পেছনে টেনে চিবুক উপরে তুলুন যাতে শ্বাসনালী খোলে। মুখে কিছু বাধা (খাদ্য, বমি ইত্যাদি) থাকলে সরিয়ে দিন।
B – Breathing (শ্বাস দেওয়া)
মুখে মুখ লাগিয়ে দুইবার শ্বাস দিন (প্রতি শ্বাসে প্রায় ১ সেকেন্ড)। বুক উঠছে কিনা লক্ষ্য করুন। যদি বুক না ওঠে, আবার মাথার অবস্থান ঠিক করে শ্বাস দিন।
অনুপাত:
৩০ বার বুক চাপ + ২ বার শ্বাস = ১ সেট
প্রতি ৫ সেট শেষে অবস্থা পরীক্ষা করুন।
মেডিকেল সহায়তা আসা পর্যন্ত চালিয়ে যান।
শিশু বা নবজাতকের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য
বুক চাপ দিন ৪ সেমি গভীরে, ২ আঙুল দিয়ে।
শ্বাস দিন মুখ ও নাক দুটো ঢেকে।
অনুপাত: ৩০ চাপ + ২ শ্বাস (যদি একজন থাকে),
অথবা ১৫ চাপ + ২ শ্বাস (যদি দুজন উদ্ধারকারী থাকে)।
যত দ্রুত সম্ভব অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন (৯৯৯)
আশেপাশের লোককে সাহায্যের জন্য ডাকুন।
যদি AED (Automated External Defibrillator) থাকে, ব্যবহার করুন নির্দেশনা অনুযায়ী।
আপনার মতামত লিখুন :