Facebook Twitter Instagram YouTube

আগস্টের ৫ তারিখ কেন ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৫, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ /
আগস্টের ৫ তারিখ কেন ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত

ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার উল্লাসে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই একটি প্রতীকী শব্দবন্ধ উঠে আসে: ‘৩৬ জুলাই’। পঞ্জিকার নিয়মে এটি অসম্ভব মনে হলেও, আন্দোলনকারীদের কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য ও বিজয়ের স্মারক হয়ে ওঠে।

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় প্রাণহানি শুরু হলে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সারাদেশে এই আন্দোলনে থাকা ৬ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কার হলেও, এক পর্যায়ে আন্দোলনটি সরকার পতনের এক দফার দাবিতে রূপ নেয়।

জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক ধরনের শপথ ছিল যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা জুলাই মাসকে শেষ হতে দেবেন না। এই প্রতিবাদের অভিনব ধারায় আগস্টের ১ তারিখ থেকে তারা নতুন মাসের গণনা শুরু না করে সেটিকে জুলাইয়ের বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখতে থাকেন।

এই ধারায় ১ আগস্ট ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং অবশেষে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের চূড়ান্ত বিজয়ের দিনটিকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আন্দোলনকারীদের মতে, এই ‘৩৬ জুলাই’ কেবল একটি দিন গণনা নয়; এটি শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে অমর করে রাখার এক প্রতীকী অঙ্গীকার। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor