
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্রকামী শক্তিকে বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের। বিনা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা স্বৈরাচারের দোসরদেরই শক্তিশালী করবে।
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন। বর্তমান সরকার মাত্র সাড়ে ৫ মাস আগে বিধ্বস্ত অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক এই সংবর্ধনা ও আলোচনাসভার সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং ড্যাব জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এমএ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকালে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
আপনার মতামত লিখুন :