
আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রেখে ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে এই রেকর্ড গড়তে পারে, তবে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। তিনি পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত আটটি গোল করার পাশাপাশি তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের আট গোল থাকলেও তিনি আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাই আজ দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি গোল করলেই গোল্ডেন বুটের দাবিদার হবেন মেসি।
বয়সের সঙ্গে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, তবে কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুনভাবে তৈরি করেন। মেসিও তার খেলার ধরনে এনেছেন আমূল পরিবর্তন। আগের চেয়ে কম দৌড়ালেও তিনি অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করছেন। এবারের বিশ্বকাপে তার ৩৩টি শট ও ২১টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড মিলিয়ে মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান রয়েছে, যা ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যান হলো, মেসির অতিক্রান্ত দূরত্বের ৪৭ শতাংশই তিনি হেঁটেছেন, যা এবারের টুর্নামেন্টে যেকোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৯০ মিনিটে মেসি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। তার ম্যাচে গড় স্প্রিন্ট মাত্র ২.৭টি, যেখানে চার বছর আগে এটি ছিল ৫.৩টি। গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কেবল পোল্যান্ডই মেসিকে গোল বা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছিল। এই ১৫ ম্যাচে তিনি মোট ১৬টি গোল করেছেন এবং ৭টি গোলে সহায়তা করেছেন।
২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে ডান প্রান্তের উইঙ্গার হিসেবে অভিষেক হয়েছিল মেসির। তখন তিনি ড্রিবলিং ও ভেতরে কেটে আসা আক্রমণে দক্ষ ছিলেন। ক্যারিয়ারের পথচলায় অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন পরিবর্তন করেছেন তিনি। আর এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজকের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :