Facebook Twitter Instagram YouTube

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১২


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ /
বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১২

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ঘটা এই ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিকেলে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম এবং বাবা সিদ্দিক ফকির অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং হাজতে সে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ ছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)সহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।