Facebook Twitter Instagram YouTube

সিলেট বিভাগে পাহাড়ি ঢলে ৬ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ /
সিলেট বিভাগে পাহাড়ি ঢলে ৬ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ছয়টি নদীর অন্তত নয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামসহ উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুকুর ও ফিশারির মাছ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩-৪টি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ গবাদিপশুসহ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।

সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় টিলা ধসের ঘটনায় ময়না মিয়া নামের এক ব্যক্তির বসতঘরের একাংশ ভেঙে গেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধিতে শহর রক্ষা বাঁধের আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, উজানের ঢলে জেলার নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী দুই-এক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানিয়েছেন, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। পাউবো মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে।