Facebook Twitter Instagram YouTube

১৭টি নতুন প্রকল্পে ৩৯০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের খোঁজে সরকার


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ /
১৭টি নতুন প্রকল্পে ৩৯০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের খোঁজে সরকার

ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচনের এই সময়ে সরকার নতুন ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৩৯০ কোটি (৩.৯ বিলিয়ন) ডলারের বিদেশি ঋণ ও অনুদানের সন্ধানে নেমেছে। অবকাঠামো, রেলওয়ে, বস্তি উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, জলবায়ু-সহনশীল নগরায়ণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব দ্রুতই ফরেন এইড সার্চ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুযায়ী এই ১৭টি প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ করবে ফরেন এইড সার্চ কমিটি। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি), জাইকা, কোইকা, ইউএনডিপি এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ঋণের প্রস্তাব পাঠানো হবে। ২০২৬ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালিকার সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হলো ঢাকার করাইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার বস্তি উন্নয়ন, যেখানে ৯৬ কোটি ডলার ব্যয় হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প হিসেবে রয়েছে বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ। ৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এই প্রকল্পের ব্যয় ২০১৮ সালের অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শুরুতে ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন এআইআইবি, এডিবি ও আইএসডিবির কাছ থেকে সহজ শর্তে অর্থায়নের চেষ্টা চলছে।

তালিকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২৫ কোটি ডলারের জলবায়ু-সহনশীল ও সবুজ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, এলজিইডির ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পাঁচটি সেতু নির্মাণ, ১৪ কোটি ডলারের মোংলা সেতু এবং ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের কল্যাণপুর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকার 'লিভারেজিং রেমিট্যান্স ইন বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের খরচ কমানো ও প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে চায়। বিএমইটি ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ভাষা ল্যাব ও অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ স্থাপনেও ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা বাড়াতে চায়, যার মধ্যে কোইকা ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার অনুদান দেবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনসহ চারটি গবেষণা প্রকল্পের জন্য বিদেশি অনুদান চেয়েছে। ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী সহযোগী নির্বাচন করা হয় এবং অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতা সংস্থার শর্ত অনুযায়ী প্রকল্প নকশা প্রস্তুত করা হয়।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৭৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০০ কোটি ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার বিপরীতে চলতি বাজেটে বৈদেশিক সহায়তায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor