
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ‘তামাদি মওকুফ’ বা বিলম্ব মওকুফের আবেদন করার সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসিকিউটর বলেন, পলাতক আসামিরা অনেক সময় ফিরে এসে দাবি করেন যে তারা মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন না, তাই তারা বিলম্ব মওকুফ চান। তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এই যুক্তি খাটবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, দণ্ডিত শেখ হাসিনা এবং এই মামলার অন্য আসামিরা মিডিয়ার মাধ্যমে মামলার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন এবং মামলার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। ট্রাইব্যুনালে এই সত্যটি তুলে ধরা হবে যে তারা মামলার বিষয়ে আগে থেকেই জানেন, তাই তারা এই বিশেষ সুযোগ নিতে পারবেন না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে (অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন।
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মোনাওয়ার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আলোকে ভারতের যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে যার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট আছে অথবা কনভিকশন ওয়ারেন্ট আছে, তাকে আইনগতভাবে প্রত্যর্পণ করতে পারে। সেই মোতাবেক শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে এবং এখানে কোনো শর্ত দেখানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আপনার মতামত লিখুন :