
রংপুরে এক শিক্ষক পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ শোকাহত। এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী। সম্প্রতি অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ের তারিখও চূড়ান্ত হয়েছিল এবং দুই পরিবার নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু মাদকাসক্ত বখাটেদের হামলায় মা, বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আগামী চক্রবর্তীর জীবনও অকালে ঝরে গেল।
ঘটনার পর ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আগামী চক্রবর্তীর হবু স্বামী অদিত করের একটি আবেগঘন পোস্ট তুলে ধরা হয়। পোস্টে আগামী ও অদিতের একটি ছবি দিয়ে আবেগঘন বার্তা দেওয়া হয়। অদিত জানান, গত বুধবার তাদের একটি ছবি তোলার কথা ছিল। অদিত লিখেছেন, “আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।” অদিত আরও যোগ করেন, “চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।”
নিহত আগামী চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের একমাত্র মেয়ে ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ের কথা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। অদিতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, অদিত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, কারণ কিছুদিন আগেই তিনি তার বাবাকে হারিয়েছিলেন, আর এবার হবু স্ত্রীকে হারালেন। বন্ধুরা শোকে মুহ্যমান অদিতকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পাশের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানে বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তীকে প্রথমে এবং পরে তার পরিবারের অন্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে আসামিরা স্বীকার করেছেন। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :