Facebook Twitter Instagram YouTube

সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, বাতিল হলো বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ /
সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, বাতিল হলো বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা

জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল। ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১০:৪৫ মিনিটে এই বিল পাসের খবরটি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় বিলটির ওপর অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়। এই বিল পাসের মাধ্যমে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি সম্পূর্ণভাবে রহিত হলো।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারায় যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রতিষ্ঠান সেসব শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কোনো বিনিয়োগকারী এগিয়ে না আসায় ধারাটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণেই ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মূলত সংকটে থাকা তফশিলি ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনের জন্য একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং ব্যাংক অবসায়ন না করে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমানো। তবে শর্তের কঠোরতার কারণে কোনো উপযুক্ত আবেদন না পড়ায় এটি বাতিল করাই যথাযথ মনে করেছে সরকার।

আইনটির ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই ১৮(ক) ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে আইনে রূপ দেওয়ার সময় এই ধারাটি যুক্ত করা হয়।

তবে আইনটি পাসের পর থেকেই ১৮(ক) ধারাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, এই ধারার সুযোগ নিয়ে রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়া ব্যাংকগুলোর সাবেক বা বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করার সুযোগ পেতেন। একই সুযোগ অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্যও উন্মুক্ত ছিল।

বিশেষ করে, পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এই ধারার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। সাবেক বিতর্কিত পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় ব্যাংকে ফিরে আসার পথ সুগম হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ধারাটি বাতিলে তীব্র দাবি ওঠে। শেষ পর্যন্ত নানামুখী সমালোচনার মুখে সরকার ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে তা কার্যকর করল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor