
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মোচা দখলের পাশাপাশি হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে কৌশলগত দ্বীপ হানিশের দিকেও তাদের সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র জানায়, সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের উপকূল বরাবর দক্ষিণ দিকে ধুবাবের দিকে সরে যাচ্ছে। বাব আল-মান্দেবের কাছে অবস্থিত ধুবাব এবং এর বিপরীতে থাকা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ এই প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা অর্জন করবে। এতে হরমুজ প্রণালির মতোই বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যার ফলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেন যুদ্ধ এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মোচা দখলের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির প্রবেশপথে হুথিদের সরাসরি উপস্থিতি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নিডহার্ট দে অর্টিজ হুথিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর সহায়তাকারীদের পরিণতির দায় নিতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, হুথিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, চলতি সপ্তাহে হুথিদের এই উপকূলীয় অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য সব শিপিং কোম্পানির জন্য লোহিত সাগরের নৌপথ নিরাপদ। ইরান-সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এখন লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল। তবে হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম দাবি করেছেন, তাদের এই অভিযান সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং ইয়েমেনে হামলা বন্ধ হলে তারাও অভিযান স্থগিত করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :