
জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বৈরাচার আমলের ডিলাররাই কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন যে, বাস্তবে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না এবং কালোবাজারে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সংকট এতটাই প্রকট যে কৃষকরা বাধ্য হয়ে গুদাম লুট করেছেন এবং বিজিবি মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
নজিবুর রহমান সংসদে আলোচনার সময় বলেন, এই সংকট কোনো মজুত সমস্যা নয়, বরং এটি সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও হরিলুটের ফসল। তিনি ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হয়ে তার বিনিময়ে দেশে ইয়াবা আসার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সার কারখানা বন্ধ রেখে জনগণের টাকায় বেশি দামে সার আমদানি করা হচ্ছে, যা সরকারের চরম ব্যর্থতা। নজিবুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের ডিলারদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও নতুন ডিলার নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠছে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সংকট নিরসনে সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ৩ হাজার ৭৫৯ জন ডিলার পলাতক থাকায় ওই পয়েন্টগুলো শূন্য রয়েছে। সারের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং তারা প্রত্যেকে দুটি করে খুচরা ডিলার নিয়োগ করতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী সার পাচারের তথ্যের কথা স্বীকার করে বলেন, সংসদ-সদস্যরা সার বিতরণের দায়িত্ব নিতে চান না, তাই ডিলাররাই নিয়মমাফিক তা করবেন।
জামায়াতের সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, সরকার বলছে সারের জোয়ারে দেশ ভাসছে, অথচ কৃষকরা ন্যায্যমূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনছেন। তিনি জানান, দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ। ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ায় আগামী রবি ও বোরো মৌসুমে দেশ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ডিলার নিয়োগে এখন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুস লেনদেন হচ্ছে। বিগত ১৭ বছর ধরে জেঁকে বসা চক্রের সঙ্গে মিলে এক ডিলার নিজ নামে, স্ত্রীর নামে, ছেলে-মেয়ের নামে ডিলারশিপ নিচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, মাথা থেকে দু
আপনার মতামত লিখুন :