জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজেট বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে ইতালিজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার দেশটির রাজধানী রোম ও মিলানসহ মোট আটটি শহরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, আকাশচুম্বী বাসাভাড়া ও জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশটির শিক্ষার্থী, ট্রাকচালক ও কৃষকেরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন শনিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী দুপুর ১টায় ইতালির আটটি শহরে একযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোম পুলিশ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। রোম পুলিশ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, আইন মেনে চলার শর্তে যেকোনো নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার, এমনকি সরকার বা নীতির প্রতি ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারও সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক শহর মিলানে গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের সময় একাধিক অভিজাত ফ্যাশন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির পর অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রাখেন এবং অনেকে কাচের প্রদর্শনী থেকে মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেন। এবার নতুন করে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে শহরটির কেন্দ্রীয় এলাকায় সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।
তবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হলেও শহর বন্ধ করার কোনো ভাবনা সরকারের নেই বলে পরিষ্কার করেছেন মিলানের মেয়র জুসেপ্পে সালা। রেডিও লোমবার্দিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত সপ্তাহের বিক্ষোভের সময় পর্যাপ্ত লোকবল ছিল না। তাই এবার শুধু নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার এক বক্তব্যে তিনি শনিবার ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শহরের স্বাভাবিক কাজকর্ম থেমে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :