Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানে বড় হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, আরব সাগরে প্রস্তুত রণতরী


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ / ০
ইরানে বড় হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, আরব সাগরে প্রস্তুত রণতরী

ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযানের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সংঘাতের অংশ হিসেবে আরব সাগরে অবস্থানরত আমেরিকার পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-এ বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। শনিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরীটি পরিদর্শনের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিশাল মজুত এবং যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করেন সাংবাদিক শেলবি হলিডে। তিনি জানান, পরমাণু শক্তিচালিত এই রণতরী এবং এর সঙ্গে থাকা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর নাবিকরা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বাঙ্কার-বাস্টার বোমাসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই করছেন। মাটির গভীর কিংবা শক্ত ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত আস্তানায় আঘাত হানার লক্ষ্যেই মূলত তৈরি করা হয়েছে এসব বিশেষ বোমা। শুধু অস্ত্র মজুতই নয়, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ওঠানামা ও নৈশ ফ্লাইট অপারেশন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হলে যাতে অতি দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে উদ্দেশ্যেই এই আগাম প্রস্তুতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনার আলোকে ইরানে পুনরায় বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী রণতরীটি নিজেকে প্রস্তুত রাখছে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরীটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী। ওই সামরিক পরিকল্পনার আওতায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার সিদ্ধান্ত রয়েছে। যার মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে থাকা জটিল ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটিও অন্তর্ভূক্ত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের কিছু অতি-গুরুত্বপূর্ণ অংশ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মাটির গভীরে নিরাপদে রাখা থাকতে পারে। ফলে ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার কার্যকারিতা নিয়ে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এছাড়া নতুন সামরিক অভিযানে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) ব্যবহারের প্রস্তাবও মার্কিন বাহিনীর টেবিলে রয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যম।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh