Facebook Twitter Instagram YouTube

ক্যাম্পাসে সংঘাতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গণজমায়েত


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৫, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ /
ক্যাম্পাসে সংঘাতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গণজমায়েত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজধানীতে একটি গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার সকাল নয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল রাজু ভাস্কর্যের দিকে অগ্রসর হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচিটি শেষ করা হয়। সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতারা এই গণজমায়েতে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে অনেককে হাতে পাইপ বহন করতে দেখা গেছে।

সমাবেশে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ৫ আগস্ট বিজয় উৎসবের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে হওয়া বাংলাদেশের জন্য, বিএনপির জন্য এবং দলটির নেতা তারেক রহমানের জন্য লজ্জার। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদলকে সামলানো না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন নিশ্চিত করেছিল, তেমনি ছাত্রদলও তার চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য করবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছিল, বিএনপি ও ছাত্রদলও এখন সেই একই পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাস দখলের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা রুখে দিতে এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে নিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাস প্রতিহত করতে প্রস্তুত।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, যারা এই হামলায় সহযোগিতা করছেন, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এই হামলার সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস কারো জন্যই ভালো নয় এবং ছাত্রলীগকে যেমন শেষ মুহূর্তে রাজপথে পাওয়া যায়নি, ছাত্রদলের পরিণতিও একই হবে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে। তিনি জানান, দুই বছরে মাত্র ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই কার্যকর হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে হল দখল এবং পুরোনো গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদল বা তাদের 'টোকাই বাহিনী'র লাগাম টেনে না ধরা হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo