
সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি দায়ের করেন অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইরন মিয়া। তিনি উপজেলার সাবানটেংরা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে। মামলায় ৯২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আসামিরা রামপাশা ইউনিয়নের বিশ্বনাথ-লামাকাজী পাকা সড়কে গাড়ির টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে যান চলাচল ব্যাহত করে এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেয়। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক এখলাছ মিয়া (৬৮ নম্বর আসামি), খাজাঞ্চী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রনি মিয়া (৮৮ নম্বর আসামি) এবং রামপাশা ইউনিয়ন জামায়াত কর্মী রেনু মিয়া (৮৬ নম্বর আসামি)।
তবে মামলার আসামি এখলাছ মিয়া দাবি করেছেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিহিংসামূলকভাবে তার নাম তালিকায় ঢুকানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিএনপির স্থানীয় দায়িত্বশীলদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে। বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, এটি বিএনপি দলীয়ভাবে করিয়েছে এবং তার দলের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে আসামি করা হয়েছে। তিনি থানার ওসির সাথে কথা বললে ওসি তাকে তদন্ত শেষে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বুধবার রাতে বাদী ইরন মিয়া মামলাটি দায়ের করেছেন। বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। মামলার বাদী মো. ইরন মিয়া জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ গৌছ আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন এবং ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে তা সমাধান করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :