Facebook Twitter Instagram YouTube

নতুন বিশ্বমানচিত্র গ্রহণে জাতিসংঘের অনুমোদন: প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ঘোষণা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ /
নতুন বিশ্বমানচিত্র গ্রহণে জাতিসংঘের অনুমোদন: প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ঘোষণা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকৃত আয়তন ও অনুপাত সঠিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি নতুন বিশ্বমানচিত্র গ্রহণের প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। গত শুক্রবার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ১৬৪টি দেশ ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট প্রদান করে।

প্রস্তাবটিতে ১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটর কর্তৃক তৈরি ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই মানচিত্রের বিকৃতির কারণে বিশ্বের যৌথ ভাবনায় আফ্রিকা মহাদেশের প্রতীকী অবমূল্যায়ন ঘটেছে। ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিষুবরেখা থেকে দূরের দেশগুলোকে অস্বাভাবিক বড় দেখানোয় গ্রিনল্যান্ডকে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাছাকাছি আয়তনের এবং আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও প্রায় সমান দেখানোর মতো অসংগতি তৈরি হয়েছে। মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে বড় এবং কেন্দ্রে দেখানোর এই প্রবণতা একতরফা বিশ্বভাবনা তৈরি করেছে বলে বিচারে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘জ্ঞানভিত্তিক বিচার ও ঐতিহাসিক সংশোধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫৬৯ সালের মানচিত্রের বদলে ২০১৮ সালে উন্মোচিত ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এই নতুন মানচিত্র কার্যকর হলে ইউরোপের আকার সংকুচিত হবে, ব্রাজিল ও আফ্রিকা দৃশ্যমানভাবে বড় হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের আয়তন নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, ফ্রান্স মার্কেটর পদ্ধতি বর্জন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দৃশ্যত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এসব বিকৃতি আমাদের চিন্তায় শিকড় গেড়ে বসেছে এবং এটি সংশোধনের সময় এসেছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে আফ্রিকান ইউনিয়ন এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করেছিল। এ প্রসঙ্গে আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য, মানবতা ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের কমিশনার আম্মা তওম-আমোয়াহ বলেন, মানচিত্রে একসময় ছোট করে রাখা আফ্রিকা এখন তার প্রকৃত ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আকার তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh