Facebook Twitter Instagram YouTube

ঢাকার যানজট নিরসনে চার নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ / ০
ঢাকার যানজট নিরসনে চার নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৪টি সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, ৩১টি পুরোনো সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তাই পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, রুট সংস্কার এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো ৪টি বিষয়কে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলা।

যানজট শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নতুন সড়ক বা উড়ালসড়ক নির্মাণ করে এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগটি সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে এর ফলে গণপরিবহনের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে যাত্রীরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা ও প্রকৃত সংখ্যা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানের মতো এলাকাগুলোতে বাসের চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে টার্মিনাল স্থানান্তরের সময় নতুন স্থানের সঙ্গে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সংযোগ এবং যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

৩১টি পুরোনো রুট সংস্কারের ক্ষেত্রে শুধু সড়ক মেরামত নয়, বরং স্টপেজের অবস্থান, যাত্রী ওঠানামা এবং বাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা কমানোর ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে চালকের যোগ্যতা ও নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই ৪টি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din