জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বর্তমান বিশ্বের সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব সংস্থাটিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলার পক্ষে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জোরদার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে সরকারের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও বৈষম্যের বর্তমান সময়ে বহুপাক্ষিকতা কেবল বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা এবং মানবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব অত্যন্ত বিস্তৃত। তিনি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।
টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে, জাতিসংঘ ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ দিবস আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি আস্থা পুনরুদ্ধার, বিভেদ দূরীকরণ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :