
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরের এই হামলায় আরও ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আক্রমণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ভবনটির ওপরের কয়েকটি তলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। শুধু ওই ভবনটিতেই সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের স্মরণে শুক্রবার কিয়েভে শোক দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। ক্লিচকো আরও জানান, হামলায় শহরের আরও দুটি জেলায় আবাসিক ভবন, গুদাম, একটি স্কুল, শিশু হাসপাতাল এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, হামলার পর রাজধানীর প্রায় ৯০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত কাজ করে অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় তারা এক ডজনেরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ উদ্ধারকাজের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে বের করে আনার দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছে। মস্কোর দাবি, তারা ড্রোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী স্থাপনা, একটি সামরিক গুদাম এবং লজিস্টিকস কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে রাশিয়া তাদের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বৃদ্ধি করেছে। যুদ্ধের এই উত্তেজনার মধ্যেই রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ হামলার সময় একটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সময়ে মলদোভার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আরেকটি ড্রোন তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :