
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের সোয়া দুই লাখেরও বেশি মানুষ কর্মমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অ্যাক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (এএসএসইটি-অ্যাসেট) প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোট প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন এন্টারপ্রাইজ-বেজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া ২১ হাজার ৭০২ জন সম্পন্ন করেছেন ৩৬০ ঘণ্টার প্রাতিষ্ঠানিক শর্ট কোর্স।
এবারের প্রশিক্ষণে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৫৭.৯০ শতাংশই ছিলেন নারী, যার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন। এই উদ্যোগের ফলে দেশের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সামাজিক অন্তর্ভুক্তিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, এই প্রকল্পের সুফল ধরে রাখতে এবং এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১৮ মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। গত ২৯ জুলাই বিশ্বব্যাংক এই মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সম্মতি জানায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্ধিত সময়ে প্রশিক্ষণের গুণগত মান বজায় রাখতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দুই লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জন কর্মমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :