
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর বিষয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতা নিরসনে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে মতামত চাওয়ার পর মন্ত্রণালয় এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এমতাবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। ফলে স্পিকারের সব দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায়। নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই বলেও মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯১ সালে সর্বশেষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল। পরবর্তীতে সাতবার রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় নিশ্চিত মনে করা হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদও ভোটের মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনী কর্তা ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফলাফল ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী নব্বই দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
আপনার মতামত লিখুন :