
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। এই খবরে ভোলার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তার মন্ত্রিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভোলায় আনন্দ মিছিল বের করা হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, নতুন মন্ত্রী হিসেবে পার্থ জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করবেন বলে স্থানীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বিজেপির জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জেলার সার্বিক উন্নয়নে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করবেন।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা পারিবারিক ঐতিহ্য থেকেই। তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী মন্ত্রী, মেয়র ও নেতা ছিলেন। তার মা শেখ রেবা রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নি। মা-বাবার পছন্দের আলোকে তিনি আওয়ামী পরিবারে বিয়েও করেছেন। দেশ-বিদেশে পড়াশোনা শেষে ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাল ধরেন। ওই বছরই বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করেন। সে সময় তোফায়েল আহমেদের মতো বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি জয়ী হন।
সংসদে তুখোড় বক্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পার্থ পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে ওঠেন। তিনি লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি, ধান্দা ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকে ক্লিন ইমেজের পরিচয় দিয়েছেন। তার স্বচ্ছ রাজনীতির কারণে তিনি মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহের সুদৃষ্টিতে আসেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিরোধী রাজনীতিতে থেকে তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন এবং ২০১৪ সালে বিএনপি জোটের নির্বাচন বর্জনের সময়ও তিনি জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আওয়ামী শাসনামলে মায়ের গোষ্ঠীর নেতৃত্ব থাকলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থেকে জেলও খেটেছেন।
২০১৮ সালে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে তার দল বেরিয়ে আসে। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও বিএনপির টিকিট নিয়ে ভোলা-১ আসন থেকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন সম্পর্ক থাকলেও, বিশেষ করে তার শ্বশুর শেখ হেলাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই এবং বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, এবং তার মেজভাই অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান শান্ত আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি বিএনপি সরকারের অধীনে মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় ভোলাবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপিয়ে তিনি ভোলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
এরপর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় ভোলায় ব্যাপক আনন্দ-আলোচনা চলছে। অতীতের সব গ্লানি মুছে ভোলার উন্নয়নে এবার তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ভোলাবাসীর।
আপনার মতামত লিখুন :