Facebook Twitter Instagram YouTube

মন্ত্রিসভার আকার ৫১: দায়িত্ব বণ্টনে ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ /
মন্ত্রিসভার আকার ৫১: দায়িত্ব বণ্টনে ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথের মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে এখন ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বর্তমানে পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৬ এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৪। এর আগে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ৪৮, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন সদস্য যুক্ত হওয়া এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার পর এই সম্প্রসারণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টনের বর্তমান চিত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠেছে। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও দায়িত্ব পালন করছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রী একাই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, এমনকি কারও কারও হাতে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও রয়েছে। অন্যদিকে, কিছু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকলেও উপদেষ্টা নেই, আবার কোথাও কোথাও মন্ত্রী একাই দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজন বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন। পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একই সঙ্গে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন এবং দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। এখানে খলিলুর রহমান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল আছেন। এছাড়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় এখন এই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকার উদাহরণ থাকলেও একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যিনি অর্থ মন্ত্রণালয় একাই সামলাচ্ছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাহেদ উর রহমান। জাহেদ উর রহমান সংস্কৃতি ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন। নতুন তথ্যমন্ত্রী হয়েছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন রয়েছেন। মাহদী আমিন প্রবাসী ছাড়াও শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষার প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম রয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাই সামলাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, তবে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নেই। শিল্প উপদেষ্টার দায়িত্বে রুহুল কবির রিজভী এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে শেখ রবিউল আলম। রেলপথ ও সড়ক পরিবহনের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এবং নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। মীর মোহাম্মদ হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়েরও প্রতিমন্ত্রী। পার্বত্য চট্টগ্রামের নতুন মন্ত্রী হয়েছেন সাচিং প্রু জেরী।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং এই দুই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী আছেন।.ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।

তখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo