Facebook Twitter Instagram YouTube

মধ্যনগর ভূমি অফিসে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, তদন্তের দাবি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ /
মধ্যনগর ভূমি অফিসে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। চামারদানী ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকার এ ঘটনায় ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ সরকার জানান, গত ১লা আগস্ট তিনি তিনটি ক্রয় দলিল ও সহোদর ভাইদের সঙ্গে সম্পাদিত বণ্টননামার মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমি নিজ নামে নামজারির জন্য ধর্মপাশার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। আবেদন নম্বর ৪২৩৯৮৩৮। তদন্তের জন্য আবেদনটি গোলাম সারোয়ারের কাছে পাঠানো হলে তিনি মোবাইল ফোনে বিশ্বজিৎ সরকারকে অফিসে ও অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন। সাক্ষাৎকালে নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। বিশ্বজিৎ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বিশ্বজিৎ সরকারের দাবি, টাকা না দেওয়ায় নামজারি আবেদনে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয় এবং ১৭ই আগস্ট আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। এরপর ১৮ই আগস্ট তার নিজের নামীয় বি.আর.এস. খতিয়ান নম্বর-১২০-এর জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য করা হোল্ডিং আবেদনটিও বাতিল করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, একই বণ্টননামার ভিত্তিতে তার ভাইয়ের নামজারি সম্পন্ন হলেও তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গোলাম সারোয়ার বলেন, বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় তিনি ভুল করে ভাইয়ের নামজারি অনুমোদন করেছিলেন।

অভিযুক্ত গোলাম সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘুষ দাবির তথ্য মিথ্যা এবং অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তিনি বিশ্বজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবেন। এছাড়া একই এলাকার মেহেদী হাসান মুকুট নামের অপর এক ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুললেও গোলাম সারোয়ার তা অস্বীকার করেছেন।

বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয় এবং ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, বণ্টননামা সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়।

বর্তমানে বিষয়টি ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়ের নজরে রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ সরকার নামজারি আবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন, হোল্ডিং আবেদন ও সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এবং মোবাইল যোগাযোগের তথ্য নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin