Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্যাস সংকটে দিশেহারা নগরবাসী, বৈদ্যুতিক চুলায় বাড়ছে খরচের বোঝা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ /
গ্যাস সংকটে দিশেহারা নগরবাসী, বৈদ্যুতিক চুলায় বাড়ছে খরচের বোঝা

রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আজমল হোসাইন গত আড়াই মাস ধরে বাসায় গ্যাস পাচ্ছেন না। শুরুর দিকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেলেও এখন রান্নার জন্য সাত হাজার টাকা দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। এতে তার মাসিক খরচের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আজমল জানান, আগে তার বিদ্যুৎ বিল ১৫০০ টাকা আসলেও এখন তা ২৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু রান্নাই নয়, গ্যাস না থাকায় পানি ফুটাতে না পারায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পানির এটিএম বুথ থেকে পানি সংগ্রহ করলেও তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ এর আগে এই পানি পান করে পুরো পরিবার ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছিল।

একই রকম পরিস্থিতির শিকার মিরপুরের হাজি মার্কেটের গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা। চার মাস ধরে তার বাসায় গ্যাসের তীব্র সমস্যা চলছে। কিছুদিন আগে গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও এখন একেবারেই পাওয়া যায় না। বিকল্প হিসেবে তিনি গ্যাসের সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। আয়েশা বলেন, আগে বিদ্যুৎ বিল ১০০০ টাকা আসলেও এখন তা আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। অথচ সরকারি গ্যাসের জন্য আলাদা বিল তো দিতেই হচ্ছে।

পূর্ব শেওড়াপাড়ার শান্তা রানী গ্যাসের অভাবে রান্নাঘরে মাটির চুলা বসিয়েছেন। তিনি জানান, অনেক সময় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও রান্নার জন্য গ্যাস পান না। রাজধানীর কালশীর শিল্পী খাতুনের ভোগান্তি আরও প্রকট। টিনশেড বাসায় থাকা এই পরিবারের বাড়িওয়ালা বৈদ্যুতিক বা লাকড়ির চুলা ব্যবহারের অনুমতি দেন না। ফলে রিকশাচালক স্বামীর আয়ের বড় অংশই বাইরে থেকে খাবার কিনে খরচ করতে হচ্ছে। শিল্পী বলেন, রান্নার ব্যবস্থা না থাকলে বাইরে খেতে গিয়ে প্রতিদিন দুই আড়াই শ টাকা খরচ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থাও শোচনীয়। মিরপুর-১২ নম্বরের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিহাব জানান, দেড় মাস ধরে চুলায় গ্যাস না থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, যা থেকে তার গ্যাসট্রিকের সমস্যা বেড়েছে। কাজীপাড়ার শিক্ষার্থী সাবরী হাসান জানান, তাদের চারজনের ব্যাচেলর বাসায় এখন সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি গ্যাসের জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা খরচ হলেও এখন সিলিন্ডারের পেছনে জনপ্রতি প্রায় সাত থেকে আট শ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

দেশে গত নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। এই ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও নতুন এলএনজি কার্গো না থাকায় ১৯ আগস্ট এক্সিলারেটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে একটি কার্গো আসায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগে সরকারি গ্যাসের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হতো।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo