Facebook Twitter Instagram YouTube

নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার আদনান নজির আরাঈ ও তার কর্মকাণ্ড


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ /
নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার আদনান নজির আরাঈ ও তার কর্মকাণ্ড

৮ নভেম্বর ২০১৮ সালে ‘আহমদ ঈসা’ নামে এক ব্যক্তি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘নাবা সেভেন’-এর মাধ্যমে নবুওয়তের মিথ্যা দাবি প্রচার শুরু করে। ভিডিও ক্লিপে সে দাবি করে যে, তার রচিত ‘আল-কিতাব’ নামক গ্রন্থে এমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা দুনিয়ার কোনো শক্তি মোকাবিলা করতে পারবে না এবং সে নিজেকে আল্লাহর রাসুল হিসেবে দাবি করে। সে মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ নবী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং এ বিষয়ে যারা বিশ্বাস রাখে তাদের মূর্খ বলে কটূক্তি করে। তার দাবি, মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী নন এবং তাকে নির্দিষ্ট কোনো ভাষার বা সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরণ করা হয়নি।

তদন্তে জানা যায়, এই ভণ্ড দাবিদারের প্রকৃত নাম আদনান নজির আরাঈ। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের খাটানা গ্রামের বাসিন্দা। তার জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। তার বাবা রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। আদনান স্পেনে গিয়ে কাদিয়ানিদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং বাবার মৃত্যুর পর পুনরায় স্পেনে ফিরে গিয়ে তার ইউটিউব চ্যানেলে নবুওয়তের দাবি সংবলিত ভিডিও আপলোড করে। গ্রামবাসীরা তার এই মিথ্যা দাবির খবর পেয়ে তার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি লালামোছাতে খোঁজ করলেও তাকে পায়নি। ১০ নভেম্বর ২০১৮ সালে তার ভাই তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্পেন পালিয়ে যায়।

আহমদ ঈসার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘নাবা সেভেন’ হিব্রু শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ ‘ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী’। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সে ইহুদিদের দালাল হিসেবে কাজ করছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী, যা কুরআন ও হাদিসের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং রাসুল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী নবুওয়তের ধারাবাহিকতা সমাপ্ত হয়েছে। অথচ এই ভণ্ড দাবিদার তার ‘আল-কিতাব’ গ্রন্থে ভিত্তিহীন ও বৈপরীত্যে ভরা কথা লিখেছে। সে দাবি করেছে কুরআন কেবল একটি ইতিহাসের কিতাব এবং এতে তার নিজের সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন।

বিভিন্ন মুসলিম ভাই তাকে মোনাজারার আহ্বান জানালেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সে একই সাথে নবী হওয়ার দাবি করে আবার কুরআনকে দলিল হিসেবে পেশ করার মতো হাস্যকর বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। সে মূলত উম্মতে মুহাম্মদির জন্য একটি নতুন ফেৎনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উলামায়ে কেরাম তার মুখোশ উন্মোচন করছেন এবং সাধারণ মানুষকে এই মিথ্যুক ও ভণ্ড থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh